Gujarat Man Death : ২০ টাকার জন্য ৩০ বছর ধরে জেলে! নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরদিনই মৃত্যু প্রৌঢ়ের
২০ টাকার জন্য ৩০ বছর ধরে জেলে! নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরদিনই মৃত্যু প্রৌঢ়ের
২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে ৩০ বছর ধরে জেলও খেটেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে আদালত। সেই কলঙ্কমুক্তির পরদিনই প্রাণ গেল গুজরাটের প্রৌঢ়ের!
শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১৮:৪০

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
নিশ্চয়ই। নিচে তথ্যভিত্তিক, সংবেদনশীল ও পেশাদার ভঙ্গিতে ডিটেলস নিউজ রিপোর্টটি লেখা হলো—
৩০ বছর পর কলঙ্কমুক্তি, পরদিনই মৃত্যু—গুজরাটের বাবুভাই প্রজাপতির জীবন যেন এক ট্র্যাজিক উপাখ্যান
মাত্র ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ—এই তুচ্ছ অভিযোগের বোঝা বয়ে নিয়ে ৩০ বছর ধরে জেলজীবন কাটাতে হয়েছিল গুজরাটের প্রৌঢ় বাবুভাই প্রজাপতিকে। দীর্ঘ তিন দশকের লড়াই শেষে অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বস্তির রায় পাওয়ার পরদিনই থেমে গেল তাঁর জীবন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাবুভাই প্রজাপতিকে ঘুষের মামলা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে গুজরাট হাই কোর্ট। আদালতের রায়ে দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মুছে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও এক ধরনের তৃপ্তি ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। রায়ের পরদিন বাবুভাই ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন,
“আমার জীবনের কলঙ্কটা মুছে গিয়েছে। এখন যদি ঈশ্বর আমায় নিয়ে যান, তাহলেও আর কোনও দুঃখ থাকবে না।”
কাকতালীয়ভাবে, ঠিক তার পরদিনই তাঁর মৃত্যু হয়।
কোনও অস্বাভাবিকতা নেই, দাবি পরিবারের
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাবুভাই প্রজাপতির মৃত্যুর পেছনে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবুও এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর আবেগ ও প্রশ্ন—ন্যায় পেতে এত দেরি কেন?
তিন দশকের যন্ত্রণা
বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে যে ঘুষের অভিযোগ উঠেছিল, তা ছিল মাত্র ২০ টাকা। অথচ সেই অভিযোগই তাঁর গোটা জীবনটাকে ওলটপালট করে দেয়। দীর্ঘদিন মামলা চলেছে, সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে, কারাবাসের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। জীবনের সেরা সময়টা কেটে গেছে আদালত আর জেলের মধ্যে।
দেরিতে আসা ন্যায়বিচার
এই ঘটনা আবারও সামনে আনল বিচারব্যবস্থায় দেরিতে আসা ন্যায়বিচারের নির্মম বাস্তবতা। আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও বাবুভাই তাঁর হারানো সময়, সম্মান আর মানসিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেখে যেতে পারলেন না।
সমাজের সামনে প্রশ্ন
বাবুভাই প্রজাপতির জীবন ও মৃত্যু সমাজের সামনে এক গভীর প্রশ্ন রেখে গেল—
যে ন্যায়বিচার জীবনের শেষপ্রান্তে এসে মেলে, তা কি সত্যিই সম্পূর্ণ ন্যায়?
কলঙ্কমুক্ত হয়ে যাওয়ার স্বস্তিটুকু নিয়েই বিদায় নিলেন বাবুভাই। কিন্তু তাঁর জীবনের গল্প থেকে যাবে বিচারব্যবস্থা ও মানবিকতার এক বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে।