চোকার্স অভিশাপ কাটল না, নায়ক হয়েও ট্র্যাজিক মিলার


 দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলারের দুর্ভাগ্যের রেকর্ড নিঃসন্দেহে ক্রিকেট দুনিয়ায় এক বিরল ঘটনা। ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা দুঃখজনকভাবে সাফল্যের কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে নকআউট ম্যাচে দুইবার সেঞ্চুরি করেও পরাজয়ের তেতো স্বাদ পাওয়া, এমন ভাগ্য আর কারও হয়নি।


মিলারের ট্র্যাজিক হিরো হয়ে ওঠার কাহিনি


আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নকআউট পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৬৭ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও জয় এনে দিতে পারেননি মিলার। দক্ষিণ আফ্রিকা সেই ম্যাচ হেরে যায়।


এর আগেও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস—ফলাফল ছিল একই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল।


এই ব্যতিক্রমী রেকর্ডের কারণে মিলার এখন একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি আইসিসির কোনো নকআউট ম্যাচে দুইবার সেঞ্চুরি করেও দলের পরাজয় দেখেছেন। তার এই দুর্ভাগ্যের তুলনা করা যেতে পারে শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়সুরিয়ার সঙ্গে, যিনি তিনবার দলীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েও নকআউট ম্যাচে পরাজয়ের কষ্ট সইতে বাধ্য হয়েছেন।


দক্ষিণ আফ্রিকার "চোকার্স" তকমা


দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার নকআউট ম্যাচে গিয়ে হোঁচট খাওয়ায় তাদের "চোকার্স" বলা হয়। ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫ এবং ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হার এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরাজয় তাদের সেই দুর্ভাগ্যের ইতিহাসকে আরও পোক্ত করল।


ডেভিড মিলারের এই দুর্ভাগ্য শুধু তার ব্যক্তিগত নয়; এটি আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসেরই এক করুণ প্রতিচ্ছবি।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org