নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব হয়নি বলে বড় শাস্তি দিয়েছিলেন মা! পুরুষতন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন কঙ্গনা?
নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব হয়নি বলে বড় শাস্তি দিয়েছিলেন মা! পুরুষতন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন কঙ্গনা?
বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত শুধু অভিনয়ের জন্যই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, স্পষ্টভাষী বক্তব্য এবং সাহসী মনোভাবের জন্যও সবসময় আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরলেন শৈশবের এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আজও তাঁকে নাড়িয়ে দেয়।
পুরুষতন্ত্রের শিকার ছিলেন কঙ্গনা
কঙ্গনা জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারেও পুরুষতন্ত্রের প্রভাব ছিল প্রবল। এর কারণে ভাইবোনদের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হত। পরিবারের মেয়েদের প্রতি সবসময় তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলা হত, ব্যঙ্গ করা হত। এমনকি, কোনও মেয়ের বিয়ে হলে বাকি মেয়েদের ঘরের ভিতরেই থাকতে বলা হত। সেই পরিবেশে বেড়ে ওঠা কঙ্গনার বাবা-মাও এখন নাকি অস্বস্তি বোধ করেন এই সব অভিজ্ঞতা মনে করলে।
ঋতুস্রাব নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
শৈশবে নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব শুরু হয়নি বলে কঙ্গনার মা তাঁকে বকাঝকা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বড় শাস্তিও দিয়েছিলেন। কঙ্গনা তখন পুতুল খেলার প্রতি ভীষণ আসক্ত ছিলেন। সারাদিন পুতুল নিয়ে খেলতেন। সেই দেখে তাঁর মা মনে করেছিলেন, পুতুল নিয়ে পড়ে থাকার কারণেই নাকি ঋতুস্রাব দেরিতে হচ্ছে। আর সেই ভুল ধারণার ফলেই একদিন কঙ্গনার মা তাঁর সাধের পুতুলের বাড়ি ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
এই অভিজ্ঞতা মনে করে কঙ্গনা বলেন—
“আমার সব বন্ধুর ঋতুস্রাব হয়ে গিয়েছিল, আমার তখনও হয়নি। আমার মা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণে আমার পুতুলের বাড়িটাই একদিন ফেলে দিয়েছিলেন।”
আজকের কঙ্গনা
অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার পাশাপাশি কঙ্গনা এখন পরিচালকও। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ইমার্জেন্সি’ তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন এবং অভিনয়ও করেছেন। শুধু সিনেমা নয়, কঙ্গনা এখন রাজনীতিতেও সক্রিয়। বর্তমানে তিনি বিজেপির সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
---
✨ এই ঘটনার মাধ্যমে কঙ্গনা রনৌত দেখিয়েছেন, সমাজে ঋতুস্রাব নিয়ে কত ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার আজও বেঁচে আছে। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলানো জরুরি, যাতে আগামী প্রজন্মকে আর এ ধরনের অন্যায় অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে না হয়।
