সেরা তিন গোলের অন্যতম, দাদু সিনিয়র দিমিত্রিই তাতান পেত্রাতোসকে


সেরা তিন গোলের অন্যতম, দাদু সিনিয়র দিমিত্রিই তাতান পেত্রাতোসকে




সমীর চক্রবর্তী: দাদু এবং নাতির নাম এক। একজন সিনিয়র দিমিত্রি পেত্রাতোস, অন্যজন জুনিয়র দিমিত্রি পেত্রাতোস।‌ মনে হতেই পারে, মোহনবাগানের ইতিহাস রচনার দিনে হঠাৎ দাদু-নাতির প্রসঙ্গ আসছে কেন? এদিন হোসে মোলিনার দলের লিগ শিল্ড জয়ের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এক দাদু-নাতির কাহিনী। চলতি মরশুম ভাল যায়নি দিমিত্রির। সর্বসাকুল্যে দুটো গোল। তাও আবার পেনাল্টি থেকে। মরশুমের অর্ধেক সময় বেঞ্চে বসেই কেটে গিয়েছে। সুযোগ মেলেনি। হাতেগোনা কয়েকটা ম্যাচে শুরু করেন। তাতেও সাফল্য পাননি। সবুজ মেরুন জার্সিতে সবচেয়ে খারাপ মরশুম। খেতাব জয়ী গোল না পেলে হয়তো এই বছরটা স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চাইতেন দিমি।



রাতারাতি নায়ক থেকে খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন। যে সমর্থকরা এতদিন তাঁকে মাথায় তুলে নাচত, তাঁরাই তাঁর বিদায়ের প্রহর গুনতে শুরু করেছিল। এই জায়গা থেকে প্রত্যাবর্তন করা সহজ নয়। কিন্তু অজি তারকাকে কে উদ্দীপ্ত করেছে জানেন? তাঁর দাদু। সর্বক্ষণ দিমিকে জিজ্ঞেস করতেন, কেন গোল করতে পারছো না? দাদুর এই কথা কানে বাজত প্রেত্রাতোসের। এটাই তাঁকে গোলে ফেরার তাগিদ জোগায়। খুশির সময় পরিবারকে ভোলেননি। গোল উৎসর্গের তালিকা লম্বা। তারমধ্যেও দাদুর বিশেষ উল্লেখ করেন। দিমিত্রি বলেন, 'আমি এই গোল ফ্যান, সতীর্থ, দলের সদস্য, আমার পরিবার যারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে, স্ত্রী, বাচ্চা, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদু-ঠাকুমাকে উৎসর্গ করছি। দাদুর কথা বিশেষভাবে বলতে হবে। কারণ দাদু সবসময় আমাকে জিজ্ঞেস করত, আমি কেন গোল করতে পারছি না?'

গত আড়াই বছরে সবুজ মেরুন জার্সিতে প্রচুর গোল করেছেন। গোয়ায় আইএসএলের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ থেকে শুরু করে ডুরান্ড ফাইনাল, ডার্বি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গোল রয়েছে। তবুও এই গোলকে মোহনবাগানের জার্সিতে সেরা তিনের মধ্যে রাখছেন। দিমিত্রি বলেন, 'অবশ্যই এই গোল সেরা তিনে জায়গা পাবে। কারণ যে পরিস্থিতি এবং পরিবেশে গোলটা করেছি, সেটা আলাদা। এটার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে আছে।' গত দু'মাস কেরিয়ারের কঠিনতম সময়। বহু সমালোচনা কানে এসেছে। সমর্থকদের থেকে বিরূপ ব্যবহারও পেয়েছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে ছিলেন। সেই কারণেই হয়তো গোলের পর অভিনব সেলিব্রেশনে‌ মাতেন। ঠিক কী চলছিল তাঁর মনে?

দিমিত্রি বলেন, 'খারাপ সময় ফুটবলের অঙ্গ, জীবনের অঙ্গ। আমি গোল করার কথা ভাবিনি। মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দিতে চেয়েছিলাম।জানতাম এক মিনিট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তারমধ্যে নিজের সেরাটা দিতে হবে। সেটব্যাক জীবনের অঙ্গ। কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না। আমি মনে করি না শেষ দুই মাস ব্যর্থ হয়েছি। একমাত্র থেমে গেলে ব্যর্থতা আসে।' ছন্দে থাকা জেসন কামিন্সের আগে পেত্রাতোসকে নামানোর ফাটকা খেলেন হোসে মোলিনা। ম্যাচ শেষে মোহনবাগানের কোচ জানান, তাঁর মনে হয়েছিল এটা দিমির ম্যাচ হতে পারে। মোলিনার মান রাখেন অজি তারকা। তবে লিগ শিল্ডেই থামতে চান না। এবার আইএসএল চ্যাম্পিয়নশিপের টার্গেটে নতুন লড়াই শুরু করবেন দিমিরা।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org